সময় সন্ধ্যা ৭:৪৫, রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পুলিশ সুপারের পদক্ষেপে বাতিল হলো ভাই আই পি প্রথা ! শৃঙ্খলা ফিরছে দৌলতদিয়া ঘাটে

রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌর“ট ২১ জেলার প্রবেশদ্বার। এই র“টে যানবহনে নানা অনিয়ম ছিলো চালকদের নিত্য সঙ্গী ।বিশেষ করে সিরিয়াল ব্রেক করে অতিরিক্ত চাদা নিয়ে ভি আই পি প্রথার মাধ্যমে ছাড়া হতো বাস, ট্রাক সহ নানা যানবাহন।
রাজবাড়ীর বর্তমান পুলিশ সুপার গত কয়েক মাসে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারে ভিআইপি বাস প্রথা বাতিলসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
ফলে শৃঙ্খলা ফিরতে শুর“ করেছে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের গুর“ত্বপূর্ণ এ ঘাটে।

জেলা পুলিশ ও ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন তিন হাজার গাড়ি পার হয়। এগুলোর মধ্যে এক হাজার ট্রাক ও এক হাজার বাস থাকে। এসব ছাড়াও ১৫০ থেকে ২০০ এসি বাস থাকে। গত ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগ থেকে ঘাটের ‘ভিআইপি বাস’ প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সব বাসকে লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে উঠতে হ”েছ।

এ বিষয়ে কয়েকজন বাস চালকদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আগে এসি বাস থেকে মাসে নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারা তোলা হতো। আর দালালদের মাধ্যমে টিকিট কিনে ফেরী পারাপার হতে হতো। আর এজন্য চালকদের গুন্তে হতো অতিরিক্ত টাকা।

কাঁচামাল বা পচনশীল দ্রব্যের গাড়ি আগে পার করার জন্য প্রতি গাড়ি থেকে দালালদের অতিরিক্ত এক থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হতো। এ ছাড়া যেকোনো গাড়ির জন্য বুকিং কাউন্টারে টিকিট কাটতে গেলে দালালদের বাড়তি ৪-৫শত টাকা দিতে হতো।
দৌলতদিয়া ঘাটে বাসের কয়েকজন সুপার ভাইজার এর সাথে কথা হলে তারা জানায়, দালালদের দাপটে গাড়িচালক, সহকারীরা টিকিট কাটতে পারতেন না। এখন সেই সুযোগ নেই। নেই কাউন্টারের সামনে দালালদের উৎপাত।
জানাগেছে, ফেরিস্বল্পতা, ভাঙনে ঘাট বিলীন, তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে দৌলতদিয়ায় যানজট লেগেই থাকত।ফেরীর অপেক্ষায় থাকা বাসের যাত্রীদের জিনিস পত্র চুরি হয়েযেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। তখন দালাল চক্রের মাধ্যমে পণ্যবাহী গাড়ি আগে পার করা হতো। এখন আর সেই সুযোগ নেই। কারণ, এখন পণ্যবাহী ট্রাক আর ঘাটে থাকে না।
ঘাট পার হতে আসা ট্রাকগুলোকে ঘাট থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ট্রাক পারাপার শুর“ হলে ট্রাকগুলো ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার ৮ ঘণ্টা ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়। ঘাটে অপেক্ষমাণ গাড়ি না থাকলে ট্রাক চলাচল করতে পারে। তবে পচনশীল দ্রব্য পারাপারকারী ট্রাক সিরিয়ালে অপেক্ষমাণ রাখা হয় না।
রাজবাড়ী জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আক্তার“জ্জামান হাসান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আগে যানজট বাঁধিয়ে ঘাটে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো। সিরিয়াল দেওয়ার নামে যা”েছতাই অব¯’া বিদ্যমান ছিল। ট্রাকের চালকদের নানা দুর্ভোগে পড়তে হতো। এখন সে পরি¯ি’তির অবসান হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ মোড়ের পশ্চিম দিক থেকে রাস্তার বাম লেনে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। গাড়ির সারি গোয়ালন্দ মোড় থেকে শুর“ হয়ে আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুর বাজার পর্যন্ত।

পাড়ের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকচালকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ‘এখন নির্ধারিত রেটে টিকিট কাটা যায়। আগে দৌলতদিয়া ঘাট পার হতে দালাল ধরতে হতো। এখন দালাল লাগে না, ঘাটে গিয়েও আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।’

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে প্রথমে ভিআইপি বাসপ্রথা বাতিল করা হয়েছে। ঘাটে যাত্রীদের সব দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দু হলো যানজট। এই যানজট বেশির ভাগ সময়ে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হতো কায়েমি স্বার্থবাদীদের লাভের জন্য। আগে যানজটের আড়ালে দালাল, চাঁদাবাজ, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা সক্রিয় ছিল। ঘাটে যানজট না থাকলে সব অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকে।
তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় ঘাটের গুর“ত্বপূর্ণ ছয়টি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং বুকিং কাউন্টারে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিয়োজিত আছে। ফলে মাঝেমধ্যে যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বির“দ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যব¯’া নেওয়া হ”েছ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা জড়িত থাকলে তাঁদের বির“দ্ধেও ব্যব¯’া নেওয়া হ”েছ।
গত পাঁচ মাসে অন্তত ৭০ জনকে এসব অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজন পুলিশ সার্জেন্ট ও দুজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আগে অনেকটা অনিয়মের মধ্য দিয়ে গাড়ি পার হতো। অনেক সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের কথা বলে ভিআইপি হিসেবে গাড়ি ডান পাশের সড়ক দিয়ে ঘাটে যেত। তাঁরা দেখেও না দেখার ভান করতেন। কিš‘ এখন আর সেই সমস্যা নেই।’

 

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী